রাজশাহীর বগুড়ায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির হামিদুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেনে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: মিজানুর রহমান।
সোমবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে তিনি ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় জীবনের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুর রহমান মিলনের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলনটি করা হয়। আর ওই নেতা হলেন বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার ওয়ার্ডের উল্লাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাহার আলীর মেয়ে সাকিলা আক্তারের সাথে দিঘলকান্দি গ্রামের হানজেলার বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে পারিবারিক কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিয়ে বিচ্ছেদের বিরোধ নিষ্পত্তির তারিখে সাকিলার স্বামী সারিয়াকান্দীর দিঘলকান্দির মো: জাহাঙ্গীরের ছেলে হানজেলা আকন্দ উপস্থিত না হলে ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ সাকিলা নিজের সিদ্ধান্তে তার স্বামীকে একতরফা তালাক প্রদান করেন। এক তরফা তালাকের ঘটনার জের ধরে হানজেলা আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত খারিজ করে দেন। মামলার অপর আসামি একই এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে মো: জাহাঙ্গীর আলম তাকে বিভিন্ন ধরনের ভীতিসহ মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
তিনি বলেন, হানজেলা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হওয়ায় তাকে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সারিয়াকান্দি উপজেলার দীঘলকান্দি প্রেম যমুনার ঘাটে তার ওপর অতর্কিত হামলা করে। তাতে তিনি মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাতে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর সারিয়াকান্দী থানায় অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
এ অভিযোগে হানজেলা ও জাহাঙ্গীরকে আসামি করা হয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন আসামিরা এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
গত ২২ মার্চ মিজানুর রহমান নিজের কাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে গাবতলী উপজেলার চকবুজাই গ্রামে গেলে পেছন থেকে অপর একটি মোটরসাইকেলযোগে এসে তাকে লাথি মেরে রাস্তার ওপর ফেলে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে তারা। স্থানীয় লোকজন তাকে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরে তিনি গাবতলী থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ করতে চাইলে ওসি তার অভিযোগ গ্রহণ না করে তাকে জানান, অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুর রহমান মিলন মামলা নিতে নিষেধ করেছেন। ওই ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুর রহমান মিলন তার সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় এলাকায় তার স্ত্রীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান এবং তার প্রচারণায় এলাকার সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিজেকে রক্ষা করতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র :নয়া দিগন্ত