এক কেজির সামান্য বেশি পরিমাণ গাঁজা পাচারে জড়িত থাকার দায়ে এক আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সিঙ্গাপুর। ৪৬ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম তাঙ্গারাজু সুপ্পিয়াহ। পরিবার ও অধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে প্রাণভিক্ষা চাওয়া হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাপী চলমান বিতর্কের মধ্যেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডবিরোধী প্রচারক কার্স্টেন হ্যান বুধবার (২৬ এপ্রিল) টুইটারে লিখেছেন, পরিবার বলেছে, তাদের হাতে তাঙ্গারাজুর মৃত্যুসনদ তুলে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির প্রিজন সার্ভিসের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন, দ্বীপের পূর্বাঞ্চলীয় চাঙ্গি কারাগারে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
তাঙ্গারাজু সুপ্পিয়াহকে ২০১৮ সালে এক কেজির সামান্য বেশি (২ দশমিক ২ পাউন্ড) গাঁজা পাচারের চেষ্টায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুর সাজা শোনানো হয়। বিচারক তার রায়ে বলেছিলেন, তাঙ্গারাজু এমন একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করছিলেন, যা থেকে সিঙ্গাপুরে মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল।
তবে অভিযুক্তের পরিবার ও অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেন, ৪৬ বছর বয়সী এ যুবককে পর্যাপ্ত আইনি সুবিধা দেওয়া হয়নি। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের তার পক্ষ থেকে একজন তামিল দোভাষী রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি গ্রাহ্য করা হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন তাঙ্গারাজুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঙ্গারাজুর বিরুদ্ধে প্রমাণগুলো ‘স্পষ্টতা থেকে অনেক দূরে’। তিনি নিজে কখনো গাঁজা স্পর্শ করেননি, তাকে আইনজীবী ছাড়াই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এবং চাওয়া সত্ত্বেও তামিল দোভাষীর সুবিধা দেওয়া হয়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মৃত্যুদণ্ডকে ‘বেআইনি’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, এটি ‘আন্তর্জাতিক আইন ও মান লঙ্ঘন করেছে’।
সিঙ্গাপুরে গত ছয় মাসের মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগের বছর ১১টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪.কম