• মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

আ’ লীগ বিহীন নির্বাচন প্রতিরোধে যুবলীগের রাজপথ দখলে রাখার পরিকল্পনা

24live@21
আপডেটঃ : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

ডেক্স নিউজ:  আ’ লীগ বিহীন নির্বাচন প্রতিরোধে রাজপথ দখলে রাখার পরিকল্পনা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ব্যাপক সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধিসহ রাজপথে জোড়ালো আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটির যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। হঠাৎ করেই রাজপথে কম্পন সৃষ্টি করছে যুবলীগ? না; হঠাৎ করে না, কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং ও অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর ফলে রাজপথে নেতাকর্মীরা উৎসাহ নিয়ে দিন দিন মিছিলের আকার বড় হচ্ছে, নির্যাতন সহ্য করে হাসি মুখে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ছে।

সারাদেশে যুবলীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে, যা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে। একটি সূত্র বলছে, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মনোবল ফিরিয়ে রাজপথে নামানোর বিশেষ কাজ করছেন। সম্প্রতি সময়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের রাজপথে মিছিল প্রমাণ করে মাইনুল হোসেন খান নিখিল অনেকটাই সফল। যুবলীগের চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশের পরিকল্পনা ঢাকাতে বৃহৎভাবে নেতাকর্মীদের অবস্থান ও মিছিল এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্যতার দাবিতে আন্দোলন করে যাওয়া।

অন্তবর্তী সরকারের অন্যায় ভাবে গ্রেফতার, মব সন্ত্রাস উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রেখেছে । গত ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামীলীগ ক্ষমতা হারানোর পর সোসাল মিডিয়া ফেইসবুকের মাধ্যমে দেশে থাকা নেতা কর্মী ১৫ আগস্ট পালন করার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা মবের শিকার হয়ে মারা যায় এবং কেন্দ্রীয় ও মহানগর যুবলীগের অনেক নেতা কর্মী গুরুতর আহত হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যুবলীগকে বিশেষ নির্দেশনায় মাঠে নামিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দক্ষিণ ও উত্তর যুবলীগের বেশ কিছু নেতা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হলেও আন্দোলন বেগবান করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা মহানগর যুবলীগসহ সারা বাংলাদেশে হাজার হাজার যুবলীগের নেতা কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। গত দুই মাসে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকায় শতাধিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সে সব মিছিল থেকে যুবলীগের অন্তত ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আটক হলেও অব্যাহত রয়েছে মিছিল। যা নিয়ে অন্তবর্তী সরকার ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকর করছে।

অন্তবর্তী সরকার ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দেশের অর্থনীতির নাজুক অবস্থা তুলে ধরাসহ বাংলাদেশের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, জনসাধারণের মাঝে এ সচেতনা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় সংগঠনটির তৃনমূল নেতাকর্মীরা।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা, সাবেক ছাত্রনেতাদের পদায়ন করা এবং দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা, থানা এমনকি ওয়ার্ড পর্যন্ত নতুন কমিটি প্রদান ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে
ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের যুবলীগে অন্তভূক্তির করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে গত ২৮ অক্টোবর ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ বিরোধী ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না, এমন শর্তে পূর্বে বহিস্কার ও অব্যাহতি পাওয়া নেতাকর্মীদের সাধারণ ক্ষমা করে সংগঠনে সক্রিয় হবার নির্দেশনা দিয়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকটি সম্পাদকীয় পদেও সাময়িক অব্যাহতি প্রাপ্তদের ফেরানো হয়েছে।

গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে ১৬ জুন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব দেন এবং সহ সভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করে।গত ২৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুলকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

যুবলীগ সূত্র আরও জানায়, শুধু কেন্দ্র- মহানগর নয়, দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও নিক্রিয়দের বাদ দিয়ে সক্রিয় ও সাহসি নেতাদের মূল্যায়ণ শুরু হয়েছে। যে সব ইউনিটে কমিটি নেই, সেখানে সক্রিয় নেতাদের সমন্বয় করে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ওপর খড়গ নেমে আসে। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী মব সন্ত্রাস ও আওয়ামী লীগকে দমন করতে নির্যাতন ও গণগ্রেফতারের পথ বেছে নেয় সরকার। সবশেষ চলতি বছরের ১০ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টামণ্ডলীর এক বৈঠকে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুবলীগের কর্মীরা রাজপথে লড়াই করবে, রাজপথেই নিশ্চিত করবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। অবৈধ ইউনুস সরকারকে বিড়ারিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার আদর্শিক পথে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনব ইনশাল্লাহ। হামলা-মামলা দিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ইউনুসের নেতৃত্বে দেশটা আজ দখল করে রেখেছে জঙ্গি গোষ্ঠী। সন্ত্রাস, মব ভায়োলেন্স, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমসহ আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নিষ্ঠুর অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী সোনার বাংলায় রূপ দিয়েছিলেন এই দেশটাকে। তাকে স্ব-সম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী রাজপথে থাকবে। যুবলীগ এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ