• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

সংবিধানের বাইরে বিরোধী দলকে স্পেস দেওয়ার সুযোগ নেই: সালমান এফ রহমান

24live@21
আপডেটঃ : বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩

আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে সরকার আন্তরিক। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তবে সংবিধানের বাইরে যেয়ে বিরোধী দলকে স্পেস দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ করতে পারি বলে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে বিএফডিসি মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবস বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজকে পরাজিত করে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এ সময় সালমান ফজলুর রহমান আরও বলেন, ইতোপূর্বে অনিয়মের কারণে একটি সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগামীতে কোনো নির্বাচনে অনিয়ম হলে তাও বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বিরোধীদেরকে আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যকেক্ষকদের স্বাগত জানানো হবে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হলেও আপাতত এর বিকল্প নেই জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, সরকার এখনো জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে ভোলায় গ্যাসপ্রাপ্তি জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করেছে। যেসব দেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য প্রতিযোগিতা রয়েছে সেসব দেশেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এবিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি হঠাৎ ব্রয়লার মুরগির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারের উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, পররাষ্ট্রনীতি সর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান পূর্বের তুলনায় অনেক সুদৃঢ়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল আমাদের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি। তবে উন্নয়ন মানে শুধু দালান-কোঠা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ,কালভার্ট তৈরি নয়। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পেতে কেবল রাজনৈতিক মুক্তি পেলেই চলবে না। দরকার সুশাসন, মানবাধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত ন্যায় বিচার ভিত্তিক দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। সম্পদ পাচার প্রতিহত করা। রাজনীতিবিদসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া।

কিন্তু আমাদের বর্তমান বাস্তবতা হলো প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। কেউ কারো মুখ দেখতে চায় না, আলোচনায় বসতে চায় না। তাই বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য সরকার ও বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিরোধী দল কেবল সরকারের বিরোধীতা না করে সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করা উচিত। আবার বিরোধী দলকে চাপে রাখার মানসিকতাও পরিহার করতে হবে। যাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তভাবে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, অর্থনীতিবিদ তাহরিন তাহরীমা চৌধুরী, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক কাবেরী মৈত্রেয় ও ইকবাল আহসান প্রমুখ। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সূত্র :দৈনিক ইওেফাক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ