• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিয়ানমারে মঠে ঢুকে ২৮ গ্রামবাসীকে হত্যা

24live@21
আপডেটঃ : বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩

মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় শান রাজ্যে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি মঠে হামলা চালিয়ে অন্তত ২৮ জনকে হত্যা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। কারেনি ন্যাশনালিটিস ডিফেন্স ফোর্স (কেএনডিএফ) নামের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ কথা জানায়। শান রাজ্যের নান নেইন গ্রামে গত শনিবার এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও বিবিসি সোমবার এ খবর জানায়।

দুই বছর আগে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামরিক বাহিনী এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রক্তাক্ত লড়াইয়ের ঘটনা বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র কিছু লড়াই শান রাজ্যে সংঘটিত হয়েছে। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো ও প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের সঙ্গে রাজ্যটির সীমান্ত আছে।

কেএনডিএফ জানায়, নান নেইন গ্রামে গত শনিবার ব্যাপক গোলাবষর্ণের পর বিমানবাহিনী ও গোলন্দাজ বাহিনী গ্রামটিতে প্রবেশ করে। তারা মঠে আশ্রয় নেয়া গ্রামবাসীদের খুঁজে বের করে এনে হত্যা করে। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শান রাজ্যের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিও লড়াই করছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর মঠে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগের পক্ষে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে কেএনডিএফ গোষ্ঠী। এতে দেখা যায়, তিনজন বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ ২১ জনের মরদেহ পড়ে রয়েছে। এসব মরদেহে একাধিক গুলি লেগেছে। ভিডিও ফুটেজে মঠের দেয়ালে গুলির আঘাতে গর্ত দেখা গেছে।

স্থানীয় সংবাদপত্র কান্তারাওয়াদ্দি টাইমসকে এনডিএফের মুখপাত্র বলেন, ‘সব কিছু দেখে মনে হয়েছে, এসব মানুষকে মঠের সামনে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে সামরিক বাহিনী।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বিবিসিকে জানায়, তারা মঠের কাছেই আরও সাতটি মরদেহ পেয়েছে। মঠের আশপাশে বেশ কিছু বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনী এসব বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কেএনডিএফ।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জানায়, নিরীহ গ্রামবাসীদের বেশির ভাগই সামরিক বাহিনী আসার আগেই পালিয়ে গিয়েছিল। কিছু মানুষ বৌদ্ধ মঠে লুকিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, এমন একটি ধর্মীয় স্থানে আশ্রয় নিলে তারা হয়তো হামলা থেকে বেঁচে যাবেন।

বিবিসি জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির বিস্তারিত যাচাই করা কঠিন হলেও মিয়ানমারের এই রাজ্যটিতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের বর্বরতার ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের পর থেকে এই রাজ্যটিতেই সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রবল প্রতিরোধের কিছু ঘটনা ঘটেছে।

কেএনডিএফ বিবিসিকে জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নান নিইন এলাকায় সামরিক বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়েছে। শান রাজ্য থেকে কায়েহ রাজ্যে যাওয়ার প্রধান রুট নান নেইন এলাকা। সামরিক বাহিনীর ধারণা, এই রুট দিয়েই সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনীগুলো অস্ত্র আমদানি করে। তাই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে সামরিক বাহিনী। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর চেপে ধরতে ব্যাপক নির্যাতন চালায় তারা। অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স গোষ্ঠীর দাবি, ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে জান্তার দমনপীড়নে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র :দৈনিক বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ