সবকয়টি মামলায় জামিন পেলেও ঈদের আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সদ্য কারামুক্ত বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ঈদের আগে আমি সবকয়টি মামলায় জামিন পেলেও ছটকো অজুহাতে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। আমাকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে দেওয়া হয়নি।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আদাবরের বাসায় এ কথা বলেন রিজভী। এদিন বাসায় গিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এসময় রুহুল কবির রিজভী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আজ অনেক বেশি উজ্জীবিত। এই সরকার জুলুম-অত্যাচার করে নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। আজকে যে লড়াই এটা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লড়াই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হচ্ছে, তারই প্রতিফলন আজ আমি দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়। এটি দেশ বাঁচানোর লড়াই, একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই।
কারাগারে থাকার সময়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই সরকারের হিংস্রতা শুধু রাজপথেই নয়, কারাগারেও। সেখানে রাজবন্দিরা অমানবিক জীবন-যাপন করছেন। আমাকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে আদালতে আনা হতো। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। গাড়ি ব্রেক করলে পড়ে যেতাম। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে আমার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।
এসময় রিজভীর স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমসহ বিএনপি নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস,
হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আব্দুস সালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, আমিনুল হক, মীর সরাফত আলী সপুসহ অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় চার মাস, অর্থাৎ ১৪০ দিন পর মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে কারাগার থেকে মুক্তি পান রুহুল কবির রিজভী। এদিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার সময় দলের নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।
ঈদের আগে ৫০ মামলার সবকটিতে জামিন পেয়েছিলেন রিজভী। সবশেষ মানহানির অভিযোগে গোপালগঞ্জে করা এক মামলায় ১৮ এপ্রিল জামিন পান তিনি। কিন্তু জামিননামার মূল কপি কারাগারে না পৌঁছানোয় ঈদের আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এর আগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
পরে ওই রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেসময় রুহুল কবির রিজভীকেও আটক করা হয়। পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক চারটি মামলা করে পুলিশ।
পল্টন ও মতিঝিল থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিজভীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আরও বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সূত্র : জাগোনিউজ২৪.কম