• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে দাবদাহে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে, উৎপাদনও ভালো

24live@21
আপডেটঃ : শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে টেকনাফের দিকে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে তরমুজ বিক্রির দৃশ্য। সড়কের দুপাশেই বিভিন্ন স্থানে তরমুজ বিক্রি করছেন স্থানীয় ফল বিক্রেতারা। উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পর্যটকেরা গাড়ি থেকে নেমে তরমুজ কেনেন। অনেকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়েই খান সুমিষ্ট এ ফল।

দাবদাহ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে তরমুজের চাহিদা বেড়েই চলেছে। দামও বেশ চড়া। দেড়-দুই কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম রাখা হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর শহরে এই তরমুজ বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকায়।

তরমুজগুলোর বেশির ভাগই মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে বালুচরের জমিতে উৎপাদিত। আকারে তরমুজ ছোট হলেও মিষ্টি অনেক। বর্তমানে ওই এলাকার ৯০ শতাংশ খেতের তরমুজ কাটা শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট তরমুজও কিছুদিনের মধ্যে কাটা হবে বলে জানান চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে। এ হিসাবে জেলায় ৩০৯ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন তরমুজ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গত বছর তরমুজ উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন।

মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় ৪০ শতক জমিতে তরমুজের চাষ করেন স্থানীয় হিমছড়ি এলাকার কৃষক জামাল হোসেন (৫৩)। এ পর্যন্ত তিনি ৯৭ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। আরও ৭০ হাজার টাকার তরমুজ খেতে আছে জানিয়ে এই কৃষক বলেন, আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণ জায়গাতে তরমুজ চাষ করবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে মেরিন ড্রাইভের উখিয়ার মনখালী এলাকায় তরমুজ, কলা ও পেঁপে বিক্রি করছিলেন স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী সাব্বির আহমদ। তিনি বলেন, সড়কের পেছনের গ্রাম থেকে তিনি ফলমূল কিনে মেরিন ড্রাইভে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করেন। গত সাত দিনে তিনি অন্তত ২২০টি তরমুজ বিক্রি করেন। দাবদাহে পর্যটকেরা তরমুজ খেতে আগ্রহী। তরতাজা তরমুজ দেখে অনেকে তেমন দামদর করেন না।

কক্সবাজার শহরের অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি ফলের দোকানে বেচাবিক্রি হচ্ছে তরমুজ। শহরের শহীদ মিনার, পালের দোকান ও থানা রোড এলাকায় বিপুল পরিমাণ তরমুজ বিক্রি হয়। একটি দোকানের ফল বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম (৪০) বলেন, তরমুজের মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদরে তরমুজের উৎপাদন শেষ পর্যায়ে। টানা ১৪ থেকে ১৫ দিনের দাবদাহ পরিস্থিতিতে মানুষ তরমুজ খেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তা ছাড়া পবিত্র রমজান মাসজুড়ে লোকজন ইফতারির সঙ্গে তরমুজ রেখেছেন। এখন চাহিদা পূরণে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরমুজ আনতে হচ্ছে। দামও অনেক। প্রতিটি তরমুজ ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলার টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, ঈদগাঁও, পেকুয়াসহ ৯টি উপজেলায় ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। রমজান মাসে প্রচুর তরমুজ বিক্রি করেছেন চাষিরা। মৌসুমের শেষ মুহূর্তে দাবদাহ থাকায় বর্তমানে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে অনেক। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ৯২ শতাংশ জমির তরমুজ কাটা হয়েছে। অবশিষ্ট তরমুজও কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু দাবদাহ পরিস্থিতিতে তরমুজের চাহিদা যেন শেষ হচ্ছে না। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে তরমুজ এনে চাহিদা পূরণ করছেন শহরের ফল ব্যবসায়ীরা।

সুত্র : প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ