• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

একজন সাবের হোসেন চৌধুরী একটি নক্ষত্রের প্রতিচ্ছবি

24live@21
আপডেটঃ : শুক্রবার, ২৩ জুন, ২০২৩
একজন সাবের হোসেন চৌধুরী একটি নক্ষত্রের প্রতিচ্ছবি
একজন সাবের হোসেন চৌধুরী একটি নক্ষত্রের প্রতিচ্ছবি

১৯৬১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এক রত্নগর্ভা মা জন্ম দিয়েছিলো একটি শিশু, বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিলো সাবের হোসেন চৌধুরী Saber H. Chowdhury। সেদিনের সেই শিশু সাবের হোসেন চৌধুরী ধীরে ধীরে উনার ছোটবেলা, কৈশোরকাল পেরিয়ে দেশে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে, ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছায়াতলে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পর পর তিন বার হ্যাটট্রিক সহ মোট চার বারের বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি হয়ে, এলাকার জনগণের প্রিয় মানুষ হয়ে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে উনার মেধা-দক্ষতা-আন্তজা’তিক জনপ্রিয়তা দিয়ে দেশের বর্তমান ক্রিকেটের রূপকার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে, অস্ট্রেলিয়ার মাননীয় স্পিকারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে সারাবিশ্বের পার্লামেন্টারিয়ানদের সর্ব বৃহৎ সংগঠন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন সৎ, স্বচ্ছ, ভালো-পরিস্কার মনের মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে, আমার মতো অনেকেরই ব্যক্তিগত-রাজনৈতিক রোলমডেল হয়ে আছেন, সেই প্রিয় নেতা সাবের ভাই।

সাবের ভাইয়ের সফলতার ইতিহাস যেভাবে এক দাগে বলে ফেললাম, আসলে প্রকৃত প্রেক্ষাপট কিন্তু ছিলো পুরোপুরি বিপরীতমুখী। বৃহত্তর মতিঝিল ও বৃহত্তর সবুজবাগ থানা নিয়ে ছিলো ঢাকা-৬ আসন। এই এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু সাহেব পরপর তিনবার পরাজয়ের হ্যাট্রিক করে ফেলেছিলেন, অথচ এই এলাকাটি ছিলো একটি আওয়ামী লীগ অধ্যুসিত এলাকা। ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তা ও সাংগঠনকে যুগের সাথে তাল মেলানোর অদক্ষতার জন্য এখানে অন্য দল থেকে বছরের পর বছর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলো, এরফলে অত্র এলাকায় তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমও বৃদ্ধি পেতে থাকে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালেও এই এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলো। তাই ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বৃহত্তর মতিঝিল ও বৃহত্তর সবুজবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ এর জন্য একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নতুন মুখ খুঁজছিলেন, পেয়েও গেলেন আবাহনী লিমিটেডের তৎকালীন দক্ষ ক্রিড়া সংগঠক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব সাবের হোসেন চৌধুরীকে। আমরা আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে সাবের ভাইয়ের পক্ষে সর্বপ্রথম প্রচার শুরু করি, তখন অবশ্য বর্তমানের অনেক নেতা-নেত্রী আওয়ামী লীগ ই করতোনা। জননেত্রী শেখ হাসিনা সাবের ভাইকে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো নৌকা মার্কার‌ প্রার্থী করলেন। সাবের ভাই প্রথমবারেই বাজিমাত করলেন, বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেন। এযেন এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। এই যে শুরু হলো, এরপর আর সাবের ভাইকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাবের ভাইয়ের শিক্ষা, মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দেশরত্ন শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হলো, শেখ হাসিনা সাবের ভাইকে অল্প বয়সে নৌপরিবহন ও স্থানীয় সরকারের উপমন্ত্রী করলেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে দুঃসময়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিলেন এবং নিজের রাজনৈতিক সচিব করলেন। সাবের ভাই উনার উপর অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা, সফলতা ও বিশ্বস্ততার সাথে পালন করলেন। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হওয়া সাবের ভাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যার রাজনৈতিক সচিব ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ‌‌‌ বিরোধী দলে ছিলো, ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি-রাজাকার সরকার। ঐ সময়ে সংঘটিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আহসানউল্লাহ মাস্টার-কিবরীয়া সাহেবের হত্যাকান্ড, সাংবাদিক, কৃষক হত্যাকান্ড সহ সকল অত্যাচার নির্যাতন জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে সামাল দিয়েছিলেন সাবের ভাই। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুঃসময়ে সবচেয়ে নির্যাতিত নেতা হলেন সাবের ভাই। বৃহত্তর ঢাকা-৬ কে আসন বিন্যাসের মাধ্যমে সবুজবাগ মুগদা ও খিলগাঁও নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ নির্বাচনী আসনের পরপর তিনবারের হ্যাট্টিক মাননীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী উনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের প্রধান পুরোধা ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের প্রথম ফ্লাইওভার, মুগদা ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, বাংলাদেশের একমাত্র গ্র্যাজুয়েট নার্সিং কলেজ, সবুজবলয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের রিক্রিয়েশন সেন্টার, সবুজবাগ সরকারী স্কুল এন্ড কলেজ, প্রতিটি এলাকায় রাস্তাঘাটের ব্যপক উন্নয়ন, শিশুদের জন্য পার্ক, খেলার‌ মাঠ, মেট্রোরেলের পরিধি বাড়িয়ে ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে আসা সহ ইউনিয়ন থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় আসা ওয়ার্ড গুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন সাবের ভাই। আর উনার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুনগত ও অবকাঠামোগত মান উন্নয়নে সাবের ভাই সার্বিক নজর রাখেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা গুলোতে শতভাগ পাশের হার অর্জন করতে পারে সেব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিতভাবেই দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। যার ফলে সাবের ভাইয়ের নির্বাচনী এলাকায় সবকিছুতেই শীর্ষ স্থানে থাকা কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল এন্ড কলেজ এবং নূরে মোহাম্মদিয়া হাফিজিয়া আলিম মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর লেখাপড়ার মান এখন উর্ধ্বমূখী।
এরকম একটি সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবের হোসেন চৌধুরীকে উনার জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন বা climate change এখন সারাবিশ্বের অন্যতম প্রধান সমস্যা। যুক্তরাজ্যের মতো শীতপ্রধান দেশেও এখন গ্রীষ্ম কালে ৩৫°সে তাপমাত্রা উঠে যাচ্ছে, বাংলাদেশেও এখন ৪০°সে এর উপরে তাপমাত্রা উঠে যাচ্ছে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই climate change-এর এই সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ হলো এই জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যায় আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগ এবং এর দায়ভার অবশ্যই উন্নত দেশগুলোর। কাজেই এখানে দর কষাকষির বিষয় রয়েছে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয় রয়েছে। সাবের ভাই দর কষাকষি করেই উনার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেট স্ট্যাটাস উপহার হিসেবে এনে দিয়েছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সাবের হোসেন চৌধুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিশেষ দূত হিসেবে আবারো উনার মেধা দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত নেয্য হিস্যা আদায় করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

মহান আল্লাহ সাবের ভাই ও উনার পরিবার সহ আমাদের সকলের মঙ্গল করুন।

খাইরুল বাহার তুমুল
বিএসএস, বিএসসি, এমবিএ (ইউ,কে)
বর্তমানে লন্ডন ব্রীজ হাসপাতালে চাকুরীরত এবং একজন মুজিব আদর্শের কর্মী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ