• সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

গঙ্গাচড়ায় কৃষি প্রণোদনার ১৬৭ বস্তা ধানবীজ উদ্ধার, থানায় মামলা

24live@21
আপডেটঃ : সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সরকারি কৃষি প্রণোদনার ১৬৭ বস্তা ধানবীজ ও ১২ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের মুন্সিপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে এবং বিকেলে উপজেলা পরিষদের মাঠ থেকে এ বীজ ও সার উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল গভীর রাতে গঙ্গাচড়া থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে আলমগীর হোসেনসহ ৩-৪ জনকে। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের নাম বলতে রাজি হয়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রণোদনার ওই বীজ ও সারের বস্তা (বীজ প্রতিবস্তা ১০ কেজি এবং সার প্রতিবস্থা ৫০ কেজি) ভর্তি দুটি ভ্যান আটক করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন। এরপরে তিনি চালকসহ ভ্যান দুটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে যান। ইউএনও নাহিদ তামান্না চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা জানান, ভ্যানে থাকা ১৪ বস্তা ব্রি জাতের সরকারি ধানের বীজ ও ১২ বস্তা টিএসপি সার আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির।

এরপরে ইউএনও সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি থানার ওসিকে জানিয়ে আলমগীরের বাড়িতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আলমগীরের বাড়ির ভেতরে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ১৫৩ বস্তা সরকারি প্রণোদনার ধানবীজ ও এক বস্তা পাটবীজ উদ্ধার করেন। এ সময় কৌশলে আলমগীর বাড়ি থেকে সটকে পড়েন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন একজন বীজ বিক্রেতা।

দুই ভ্যানচালকের বরাত দিয়ে ইউএনও নাহিদ তামান্না বলেন, সরকারি কৃষি প্রণোদনার ধানবীজ ও রাসায়নিক সারের বস্তা উপজেলা কৃষি গুদামের সামনে থেকে ভ্যানে তুলে নেন দুই চালক। এখন কারা ওই বীজ ও সার তুলে দিয়েছে, তা তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের দুইজন সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কৃষি প্রণোদনার ধানবীজ ও সার কৃষকদের না দিয়ে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যোগসাজশ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এভাবে বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফা ইফতেখার সিদ্দিকা বলেন, তাঁদের এক কর্মী কৃষি গুদামের দায়িত্ব পালন করেন। এ কর্মী কৃষকদের মধ্যে ওই প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ করেছিলেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করার পর জানা যাবে। ওই কর্মী উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলে জানান তিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি আজ (গতকাল) স্লিপ নিয়ে গুদাম থেকে কৃষকদের সরকারি ধানবীজ ও সার দিয়েছি। এখন কৃষক বিক্রি করেছে কি না, সেটা জানি না। এখন আমার বিরুদ্ধে সার ও বীজ বিক্রির মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’

গঙ্গাচড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মন্তাজুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনসহ ৩-৪ জনের নামে মামলা করেছেন। মামলার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

সূত্র : প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ